39.2 C
Dhaka
June 16, 2019
জাতীয়

আগামী বাজেট থেকে ভাতা পাবে সব প্রতিবন্ধী : প্রধানমন্ত্রী

ভূমিহীন বার্তা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেছেন, আগামী বাজেট থেকে দেশের সব প্রতিবন্ধী ভাতা পাবে। বর্তমানে সরকার ১০ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মাসিক ৭০০ টাকা হারে ভাতা দিচ্ছে।

সেন্সাস রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে এখন ১৪ লাখ প্রতিবন্ধী রয়েছে, যারা আগামী দিনে ভাতার আওতায় আসবে। মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১২তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অটিজম আক্রান্ত শিশু সুস্থ পরিচর্যা পেলে স্বাভাবিকভাবে সবার সঙ্গে মিলে চলতে পারবে। অটিজম আক্রান্ত শিশু কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী। এদের মাঝে যে সুপ্ত জ্ঞান ও প্রতিভা থাকে, সেটাকেও কাজে লাগাতে হবে।’

প্রতিবন্ধীদের মেধা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা যদি একটু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে তাদের জীবনটাও অর্থবহ হয়।

তারা যতটুকু সুযোগ পায়, সেটাকে কাজে লাগাতে পারে।’ প্রতিবন্ধীদের জন্য বর্তমান সরকার এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় আধা ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা যতটা সময় পায় তার থেকে প্রতিবন্ধীরা একটু বেশি সময় পায় এই জন্য যে, তারা যেন পরীক্ষাটা ঠিকমতো দিতে পারে।

কারণ তারা অন্য সবার মতো একই সঙ্গে লিখে শেষ করতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘তাদেরকে কেউ বোঝা মনে করবেন না। কারণ তাদের মধ্যে সুপ্তপ্রতিভা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ‘মুক্তা’ মিনারেল ওয়াটারের বোতল হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানের সবাইকে দেখিয়ে বলেন, ‘এটিও আমাদের প্রতিবন্ধীরাই তৈরি করছে।’ তিনি এই পানি কেনার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধীদের বহুমুখী প্রতিভার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা প্লাস্টিক এবং বেত দিয়ে মোড়া তৈরি করছে, নানা সাংসারিক উপকরণ তৈরি করছে। আমি সুযোগ পেলেই এগুলো সংগ্রহ করি এবং ব্যবহার করি।

প্রতিবছর দুই ঈদ এবং নববর্ষের জন্য যেসব শুভেচ্ছা কার্ড পাঠাই, সেগুলো প্রতিবন্ধীদের চিত্রাঙ্কন থেকেই নির্ধারিত মূল্য দিয়ে সংগ্রহ করি।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের এ চিত্রাঙ্কন থেকে তৈরি কার্ড দিয়ে আমার মেয়ে এবং বিশ্ব অটিজম আন্দোলনের অগ্রপথিক সায়মা ওয়াজেদ হোসেন একটি অ্যালবাম তৈরি করেছে। যেটি সরকার উপহারস্বরূপও বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছে।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য এবং পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন বক্তৃতা করেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জোয়েনা আজিজ স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অটিজম আক্রান্ত ৫ জন শিশুকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং অটিজম সচেতনতা সৃষ্টিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনজন ব্যক্তিত্ব এবং তিনটি প্রতিষ্ঠানকেও পুরস্কৃত করেন। অনুষ্ঠানে তিনি নীল বাতিও প্রজ্বালন করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২ এপ্রিলকে বিশ্বব্যাপী অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির অধিকার।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অটিজম শিশু জন্মানোর ক্ষেত্রে মা-বাবা কারোরই কিছু করার থাকে না। তথাপি আমাদের সমাজে এজন্য মাকেই যে দোষারোপ করা হয়। আশা করি কেউ আর অযথা মাকে কোনোভাবে দোষারোপ করবেন না। কারণ এতে মায়েরও কষ্ট। আল্লাহ মানুষটাকে এভাবে তৈরি করেছে, কাজেই তাকে অবহেলা করা কোনো সুস্থ মানুষের কাজ নয়। প্রতিবন্ধী মানুষে প্রতি আমাদের আরও সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এটুকুই চাইব, এ অবহেলিত গোষ্ঠী যেন আর অবহেলার শিকার না হয়, তারা যেন আমাদের সমাজে যোগ্য স্থান পায়। কারণ তারা আমাদেরই ভাই-বোন, আমাদেরই সন্তান, আমাদেরই সব। সেকথা মনে করে, সবাই এই অটিস্টিক প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে মিলে চলবেন।’ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘প্রতিবন্ধী জনগণের জন্য যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন ছাড়াও শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চলাফেরা, যোগাযোগ সহজ করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করেছি।’

তিনি বলেন, আমরা ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩’ এবং ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩’ নামে দুটি আইন পাস করেছে। এ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিধিও প্রণয়ন করা হয়েছে।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট’। এ পর্যন্ত সরকার এই ট্রাস্টকে ৭০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাস্ট থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮১১ জন অসচ্ছল নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ৪০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে ১২০০ জন অসচ্ছল নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ৭০ লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘পিতামাতা ও অভিভাবকহীন নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী মেয়েদের জন্য সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫০ আসনবিশিষ্ট এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ছেলেদের জন্য বগুড়ায় ৫০ আসনবিশিষ্ট পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

পর্যায়ক্রমে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। আর যখন সম্ভব হবে, তখন প্রত্যেক জেলায়ই এ ধরনের কেন্দ্র করে দেয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে ট্রাস্ট ফান্ড করেছি, সেই ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমেও আমরা সহায়তা দেব। সেক্ষেত্রে বিত্তশালী যারা আছেন তাদের বলব, এসব ট্রাস্ট ফান্ডে অনুদান দিন।’

প্রতিবন্ধীদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান বিশেষ করে স্পেশাল অলিম্পিকে প্রতিবারই স্বর্ণ জিতে আনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদ চত্বরে প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার জন্য ৪ দশমিক ১৬ একর জমি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঢাকার অদূরে সাভারে প্রায় ১২ একর জমিতে ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ইনক্লুসিভ প্রতিবন্ধী স্পোর্টস কমপ্লেক্স স্থাপনের ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকার মিরপুরে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫তলা মাল্টিপারপাস প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, থেরাপিসহ অন্য সব সেবা প্রদানের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।’ তিনি বলেন, ‘অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্নসহ সব প্রতিবন্ধী শিশুকে সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে হবে।

যাতে সাধারণ শিশু প্রতিবন্ধী শিশুর সঙ্গে মিশে মানুষের ভিন্নতা সম্পর্কে জানতে পারে এবং ভিন্নতাকে মেনে নেয়ার শিক্ষা পায়।’ প্রধানমন্ত্রী পরে অটিস্টিক শিশুদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনে সে দেশের সরকারের প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যত দ্রুত তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা যাবে ততই সেটা সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ঢাকায় যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ কথা বলেন। যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা বিপুলসংখ্যক, ইতিমধ্যেই ক্যাম্পে প্রায় ৪০ হাজার নবজাতক জন্মলাভ করেছে এবং তারা সংখ্যায় কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকেও ছাড়িয়ে গেছে। শেখ হাসিনা মিয়ানমার সরকার কর্তৃক কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন এবং রোহিঙ্গাদের সফল প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

হাইকমিশনার বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রশ্নে তার দেশের ব্যবসায়ীদের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলেন, ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগে খুবই আগ্রহী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

অটিজম জিনগত সমস্যা : অটিজম কোনো রোগ নয়। এটি একটি জিনগত সমস্যা। এই সমস্যার সঙ্গে পুষ্টির সম্পৃক্ততা রয়েছে। এদিন সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। লাইট ইট আপ ব্লু মিউজিক ফর অটিজম শীর্ষক অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে নিউট্রিশন অ্যান্ড অটিজম রিসার্চ সেন্টার (এনএএআরসি)। অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোয়ার হোসেন, কেরানীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাজেদা, এনএএআরসির আরিফ ও তামান্না শারমিন বক্তব্য দেন।

Related Articles

৩৬ বিসিএসের ৩০ জনের ভাগ্য খুলেছে : এখনো অশ্চিয়তায় ৩৮

Staff Correspondent

৩৬টি আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও এওয়ার্ড পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Staff Correspondent

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সদস্য হলেন মনসুর আহমেদ

Staff Correspondent