32.3 C
Dhaka
July 23, 2019
জাতীয় সারাদেশ

নির্বাচনের আগের এবং পরের এনামুল হক শামীম

জি.কে.সানজিদঃ

ঢাকা বিভাগের পদ্মা সেতু সংলগ্ন জেলা শরিয়তপুর। এই জেলার নড়িয়া উপজেলা এবং সখিপুর থানা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী আসন শরিয়তপুর ২। এই আসনের উত্তর ও পূর্বে পদ্মানদীর ভাঙ্গনে খেলাজল বহুবছর আগে থেকেই। ২০০৮ সালে সখিপুরের চরভাগা, তারাবনিয়া ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙ্গনের স্বীকার হোন। বসদবিটা ছাড়া হয় হাজারো পরিবার। কিন্তু এই ভাঙ্গন ঠেকানো এবং নদীভাজ্ঞন কবলিত পরিবারের জন্য তেমন কোন বিশেষ অবদান রাখেন নি তখনকার এমপি। এই আসনের রাস্তা ঘাটেরও ছিল করুন অবস্থা। জনগন চাচ্ছিল এমন একজন কে, যে তাদের এই অবহেলা থেকে মুক্তি দিবে। অবশেষে নড়িয়া-সখিপুরের মাঠ পর্যায়ে তরুন থেকে শুরু করে সকল মহলের জনপ্রিয়তার উপর ভিত্তি করে এই আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দিলেন নতুন মুখ ” এ কে এম এনামুল হক শামীম ( সাংগঠনিক সম্পাদক,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ)। যে এসেছিল মুক্তির মিছিলের যোদ্ধা হয়ে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিঁনি নড়িয়া- সখিপুরের প্রতিটি ওয়ার্ড , ইউনিয়নে সাধারন জনগনের সাথে পথসভা,মতবিনিময় সভা করেছিলেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি,ওয়াদা হিসেবে ছিল, নড়িয়া রক্ষা বাধ,রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, নড়িয়া সখিপুরে আধুনিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মান, সখিপুর থানাকে উপজেলা করন, কয়েকটি স্কুল, কলেজ সরকারি করন, শতভাগ বিদ্যুৎ। তবে তিনি এমপি হওয়ার আগেই নড়িয়া রক্ষা বাধ প্রকল্প কাজের যাত্রাশুরু করেন। এবং নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে বারবার ত্রান নিয়ে পৌছে যায়। যার ফলে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত হন। যার প্রতিদান স্বরুপ ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচনে জনগন তাকে নিরঙ্কুশ সংখ্যা ঘনিষ্ঠতায় ভোটে বিজয়ী করেন। সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহনের পর মন্ত্রীপরিসদে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী হিসেবে জায়গা করে নেন। এরপর এ অঞ্চলের গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষ তাকিয়ে থাকেন শরিয়তপুরের স্বপ্নদ্রষ্টার দিকে। তার প্রথম সফলতা নড়িয়া রক্ষা বাধ প্রকল্প আজ দৃশ্যমান। তিনি এ বাধ প্রকল্প কাজের অগ্রগতি দেখার জন্য বারংবার ছুটে এসেছিলেন ঝড়,বৃষ্টি,শতব্যস্থতাকে তোয়াক্কা না করে। চরভাগার সাধারন জনগনের চিকিৎসা সেবার কথা চিন্তা করে উদ্বোধন করেছেন ১০ শয্যা বিশিষ্ট ” বেগম আশ্রাফুন্নেশা হাসেম মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র”। এবং সেদিনই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়নে এ রকম মা ও শিশু কল্যান করার ব্যবস্থা করবেন। আর এই সমস্ত উন্নয়নের পিছনে এ সরকার প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, শেখ হাসিনা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালোথাকবে। এ অঞ্চলের রাস্তা ঘাটের উন্নয়নের জন্য ৩০ কোটি টাকার বরাদ্ধ ইতোমধ্যে পাশ করেছেন। মার্চের মধ্যে এ অঞ্চলকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার জন্য বিদ্যুতের কাজের অগ্রগতি বেশ প্রশংসনীয়। তাছাড়া নওয়াপাড়া,কাচিকাটা,চরআত্রা এই তিনটি ইউনিয়ন মুন্সিগঞ্জ সংলগ্ন। যার চতুর্দিকে নদীঘেরা। এ সরকারের অঙ্গিকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সেই প্রতিশ্রুতি হিসেবে এ অঞ্চলেও বিদ্যুতের প্রকল্প পাশ করান এবং  সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে পদ্মার তলদেশ দিয়ে এসব চরে বিদ্যুতায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।। এছাড়াও তিনি টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর বামতীরবর্তী গাছ-কুমুল্লী, বারপাখিয়া এবং নাগরপুর উপজেলার ঘোনাপাড়াসহ বাবুপুর-লাউহাটি এফডিসি এলাকার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করে সে অঞ্চলে প্রসংসনীয় হোন। সাংসদ এবং মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহনের দুই মাসের মধ্যেই উন্নয়ন কাজের পুরস্কার হিসেবে হাজারো মা তার জন্য নামাজ এবং রোজা রেখে দোয়া করেন। তিঁনি সবসময়ই দলের জন্য ক্লান্তহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বাণিজ্যিক বিভাগ চট্রগ্রামের দায়িত্বে আছেন। তিঁনি নব্বই দশকে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব থাকা অবস্থায় তার দায়িত্বের অবদান স্বরুপ শেখ হাসিনার খুব স্নেহবাজন ছিলেন। আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

Related Articles

সংবিধানে সংখ্যালঘু বলে কোনো শব্দ নেই: এলজিআরডি মন্ত্রী

Staff Correspondent

আঃলীগ নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা

Staff Correspondent

পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

Staff Correspondent