32.3 C
Dhaka
July 23, 2019
জেলা উপজেলা সারাদেশ

বান্দরবানের রুমায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চারেক ঘর নির্মানের টাকা উত্তোলন করলেও বাস্তবায়ন হয়নি

ডেভিড সাহা, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের রুমায় পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা পাড়ার দুইটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে বিল উত্তোলণ করা হলেও এখনো বাস্তবায়ন  হয়নি। কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে কিংবা আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এ অবস্থায় প্রকল্প এলাকার স্থানীয় লোকজনের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষের ঝড় ওঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ(টিআর) সাধারণ নগদ টাকার কর্মসূচীর আওতায় পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা পাড়া বৌদ্ধ বিহারে চারেক ঘর নির্মাণ কাজের বিপরীতে ২,০০,০০০/= (দুই লক্ষ) টাকায় প্রকল্প গ্রহন করায়। এ প্রকল্পের সভাপতি পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা নিজেই। দুই মাস আগে ১,০০,০০০/=(এক লক্ষ) উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চান্দ মৌজা হেডম্যান ছামংউ মারমা জানান বৌদ্ধ বিহারের ছারেকঘর নির্মাণের জন্য কোনো বরাদ্ধের কথা জানা নেই। ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং নিজেও ছারেক ঘর নিমার্ণের কোনো বরাদ্ধের কথা কখনো পাড়াবাসীকে জানায়নি। বর্তমানে যে চারেক ঘর আছে, সেটি বেশ কয়েক বছর আগে বানানো। এবার পাড়াবাসীর সম্মিলিতভাবে সম্পূর্ণ নিজেদের কায়িক পরিশ্রম দিয়ে তা সংস্কার করেছেন বলে জানালেন তিনি।
তবে চান্দা পাড়া কারবারি পাইচিং অং মারমা জানান চারেক ঘর সংস্কারের আগে ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কেনার কথা জানিয়ে বৌদ্ধ বিহারের ভান্তে‘র নিকট এক লিটারওয়ালা ৫টি পেন্ট রংয়ের বইয়ম দান করেন। এ কথা বিহারের ভান্তে তাঁকে (পাইচিংঅং) জানিয়েছেন। তবে সরকারি- বেসরকারি সংস্থা কোনো সংস্থা থেকে বরাদ্ধ প্রদানের কথা কখনো শুনেননি তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে এডিপি‘র অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এজিইডি)‘র বাস্তবায়নে পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা পাড়া সিঁড়ি নির্মাণ এর বিপরীতে ১,৭০,০০০/=(একলক্ষ সত্তর) হাজার টাকা বরাদ্ধ প্রদান করা হয়।  এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি সভাপতি হচ্ছেন পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা। কাজটি বাস্তবায়ন করতে ইতোমধ্যে অর্ধেক টাকা উত্তোলন করেন চেয়ারম্যান নিজেই। এলজিইডি প্রকৌশলী যথাযথ প্রস্তুত করার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) ও উপজেলা চেয়ারম্যান যৌথ স্বাক্ষর দেয়ার পর বিলটি পান চেয়ারম্যান উহ্লামং।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাইন্দু ইউপি চেয়রম্যান উহ্লামং মারমা এই চান্দা পাড়ায় দুইটি প্রকল্প গ্রহন করে প্রায় দুই লক্ষ টাকা আত্মসাত করে নেন। এপ্রিলের প্রথম দিকে ভুয়া ছবি লাগিয়ে দুইটি প্রকল্প চুড়ান্ত বিল পাইতে আবেদন করেন ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা।
প্রকল্প দু‘টি পরিদর্শন করেন ইউএনও মোহাম্মদ শামসুল আলম। তাঁর পরিদর্শনে চারেক ঘর নির্মাণের কোনো আলামত খোঁজে  পাননি তিনি। এতে বিদ বাধে পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং এর দুইটি চূড়ান্ত বিলের প্রক্রিয়ায়।
এব্যাপারে জানতে চাইলে পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা বিষযটি নিয়ে কোনো মুখ খোলেননি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমঙ্গীর বলেন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাজটি ঠিকমত কাজ করতে চাপ দিচ্ছি। তা  নাহলে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রবিউল হোসেন জানান সিঁড়ি নির্মাণ কাজটি শতভাগ শেষ না হলে চুড়ান্ত বিল দেয়া হবে না
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন কাজ দুইটি তাড়াতাড়ি শেষ করতে পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছি। যথাসময়ে কাজ না হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Related Articles

বরগুনা “গ্রাম আদালতের সুবিধাভোগী খালেদা বেগমের গল্প”

Bhumihin Barta

সোনালি আঁশে অস্থিরতা কেন?

Bhumihin Barta

অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করতে নৌকায় ভোট দিনঃ সাংবাদিক শফিকুর রহমান

Staff Correspondent